Food & Nutrition-এ পড়াশোনা যাদের, তাদের জন্য

আমাদের দেশ থেকে যে হারে ইঞ্জিনিয়ারিং বা কেমিস্ট্রিতে পড়া ছেলেমেয়েদের বিদেশ যেতে দেখি, খাদ্য ও পুষ্টিতে পড়া ছেলেমেয়েদের সেভাবে দেখি না। আমি নিজে যখন আমেরিকায় পুষ্টির জন্য চেষ্টা করছিলাম, হাতে গোনা মাত্র ৬/৭ জনকে পেয়েছিলাম যারা পুষ্টির উপর আমেরিকায় গ্র্যাজুয়েট লেভেলের পড়াশোনা করছেন। আরও অনেকে হয়তো আছেন, কিন্তু আমি খুঁজে পাইনি। যা হোক, পোস্টটা খাদ্য ও পুষ্টির স্টুডেন্টদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য যে, সুযোগ তাদের জন্যেও আছে। সত্যি বলতে কি, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ায় খাদ্য ও পুষ্টির জন্য অনেক সুযোগ আছে। ইন্টারনেটে খুঁজলেই পাওয়া যাবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় যারা খাদ্য ও পুষ্টির উপর মাস্টার্স আর ডক্টরাল ডিগ্রি দিচ্ছে। তবে আমার পোস্ট শুধু আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যেহেতু অন্য দেশ সম্পর্কে আইডিয়া খুব কম।

আমেরিকান ভার্সিটিগুলোয় খাদ্য ও পুষ্টির প্রোগ্রামকে তিনটা ভাগে ভাগ করা যায়ঃ

১) যেসব ভার্সিটিতে খাদ্য ও পুষ্টির উপর শুধু ব্যাচেলর তথা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির অফার আছে, মাস্টার্স/ডক্টরাল ডিগ্রি তথা গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির অফার নেই।

২) যেসব ভার্সিটিতে শুধু ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স ডিগ্রির অফার আছে, ডক্টরাল ডিগ্রির নেই।

৩) যেসব ভার্সিটিতে ব্যাচেলর, মাস্টার্স এবং ডক্টরাল – তিন ধরনের ডিগ্রিরই অফার আছে।

যেসব ভার্সিটিতে ডক্টরাল ডিগ্রির অপশন আছে, সেসব ভার্সিটিতে মাস্টার্সে ফুল ফান্ড পাওয়া বেশ কঠিন হয়। কারণ পিএইচডি স্টুডেন্টদের পিছনে বেশিরভাগ ফান্ড চলে যায়। তাই আপনার যদি মাস্টার্স করার টার্গেট থাকে, তাহলে যেসব ভার্সিটিতে মাস্টার্স পর্যন্ত অপশন থাকে, সেগুলোই বেশি নিরাপদ হবে। কারণ তখন ফান্ডের মূল ভোক্তা হয় মাস্টার্সের স্টুডেন্টরা। তবে দৃশ্যটা ১০০% এরকমই হবে, তা নয়। এটা একটা জেনারেল আইডিয়া। অ্যাডমিশন এতটা সরলরৈখিকভাবে চলে না। তাই ডক্টরাল ডিগ্রির অপশনওয়ালা কোনো ভার্সিটির মাস্টার্স প্রোগ্রাম আপনার পছন্দ হয়ে গেলে ‘ফান্ড পাবো না। এপ্লাই করে লাভ কী?’ ভেবে সরে গেলে চলবে না। মাস্টার্সে ফান্ড পাওয়ার সম্ভাবনা কেমন, সেটা যাচাই করার বেশ কিছু উপায় আছে। যেমন, ভার্সিটির ওয়েবসাইটেই লেখা থাকে মাস্টার্সে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (Graduate Assistantship, Graduate Teaching Assistantship, Graduate Research Assistantship) দেওয়া হয় কিনা, অ্যাডমিশন হলে কী পরিমাণ ফান্ড দেওয়া হবে ইত্যাদি। এছাড়া প্রফেসরদের নক করে জিজ্ঞেস করা যায় তাঁরা অমুক সেশনের জন্য মাস্টার্সে স্টুডেন্ট নিতে আগ্রহী কিনা। আগ্রহী হলে ধরে নেওয়া যায়, উনাদের হাতে দেওয়ার মত ফান্ড আছে। ফান্ড না থাকলে সাধারণত প্রফেসররা সরাসরি বলে দেন যে, তাঁরা স্টুডেন্ট নিবেন না। আবার অনেকে বলতে পারেন, তাদের হাতে ফান্ড নেই তবে আপনার প্রোফাইল পছন্দ হওয়ায় তাঁরা ডিপার্টমেন্টে আপনাকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য রেকমেন্ড করবেন। সেক্ষেত্রে আপনার Graduate Assistantship/Graduate Teaching Assistantship পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। আবার আপনি গ্র্যাজুয়েট কোঅরডিনেটরকে আপনার প্রোফাইল পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন, প্রোফাইলটা অ্যাডমিশন এবং ফান্ড পাওয়ার উপযুক্ত কিনা। উনার উত্তর থেকেও আপনি পরিস্থিতি আঁচ করতে পারবেন।

এখন আসুন, ইউএসএর ৩০০০ ভার্সিটির মধ্যে কীভাবে খুঁজে পাবেন কোন ভার্সিটিগুলোতে খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানের উপর গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির অফার আছে সে বিষয়ে। খুব সোজা, গুগলে সার্চ দিলেই হয়। কিন্তু তারপরও আপনাদের কাজ সহজ করার জন্য আমি কয়েকটা লিংক দিতে পারি।

প্রথম লিঙ্কটা American Society for Nutrition-এর লিংক, যেখানে প্রতিটা স্টেটের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানের উপর আন্ডারগ্র্যাজুয়েট + গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির অফার দেয়, তাদের তালিকা আছে। দ্বিতীয় লিঙ্কটা USDA প্রদত্ত লিংক, যেখানে বিভিন্ন স্টেটের নাম আছে। স্টেটের নামের উপর ক্লিক করলে আপনি চলে যাবেন ঐ স্টেটের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানের উপর আন্ডারগ্র্যাজুয়েট + গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির অফার দেওয়া হচ্ছে, সে তালিকায়। তবে কোনো লিংকই শুধুমাত্র গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রির উপর ভিত্তি করে বানানো হয়নি। আপনাকে কষ্ট করে ভার্সিটির ওয়েবসাইটে ঢুকে ঢুকে বের করতে হবে, কোন ভার্সিটি কোন ধরনের ডিগ্রি অফার করে।

১) https://nutrition.org/meetings/graduate-program-directory/

২) https://www.nal.usda.gov/fnic/college-and-university-nutrition-programs

৩) http://www.blueskysearch.com/pages/agriculture-universities

একটা নির্দিষ্ট ভার্সিটির নির্দিষ্ট প্রফেসরের কাছে আমেরিকান সরকারের দেওয়া ফান্ড আছে কিনা, সেটা জানার একটা মোক্ষম ওয়েবসাইট লিংকঃ NIH Awards by Location and Organization – NIH Research Portfolio Online Reporting Tools (RePORT)

কিছু ভার্সিটির Nutrition প্রোগ্রাম প্রচণ্ড রকমের প্রতিযোগিতামূলক এবং হাইফাই র‍্যাংকিংয়ের। হাইফাই প্রোফাইল ছাড়া এগুলোতে সুযোগ পাওয়া অনেক কঠিন। যেমনঃ Harvard University, Cornell University, Johns Hopkins Center for Human Nutrition, University of California, Berkeley, University of California, Davis, Boston University, Purdue University, Tufts University, University of Illinois at Urbana-Champaign, University of Massachusetts, Amherst, University of Wisconsin – Madison, Texas A&M University, College Station, Pennsylvania State University, University of Maryland, College Park ইত্যাদি।

তাই উচ্চশিক্ষার পথে প্রথমেই যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা হল, নিজের প্রোফাইল মূল্যায়ন করা। CGPA, GRE score, IELTS/TOEFL score, রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স, রিলেটেড ফিল্ডে চাকরির অভিজ্ঞতা, পাবলিকেশন, সেমিনার এবং কনফারেন্সে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা, পড়াশোনার বাইরে অতিরিক্ত ট্রেনিংয়ের অভিজ্ঞতা, টিচিংয়ের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে আপনার প্রোফাইল তৈরি হয়। সবগুলো বিষয়ই যে আমেরিকার ভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার জন্য অত্যাবশ্যক, এমনটা নয়। তবে যত বেশি পয়েন্ট আপনার ঝুলিতে থাকবে, প্রোফাইল তত শক্তিশালী হবে। এখানে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মিডল র‍্যাংকের ভার্সিটিগুলোয় কোনোরকম পাবলিকেশন ছাড়া শুধুমাত্র CGPA, GRE score, IELTS/TOEFL score, রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স এবং স্টেটমেন্ট অফ পারপাসের উপর ভিত্তি করে ফান্ডসহ (ফুল কিংবা পারশিয়াল) অ্যাডমিশন হওয়া সম্ভব। তাই আপনার প্রোফাইল বিচার করে ভার্সিটি সিলেক্ট করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিটা ভার্সিটির ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের জন্য ‘Minimum Requirements’ দেওয়া থাকে। সেগুলো দেখে বুঝা যায়, ঐ ভার্সিটিতে এপ্লাইয়ের জন্য আপনার প্রোফাইল কতোটা উপযুক্ত। তবে মনে রাখা দরকার, Minimum Requirements পূরণ করতে পারলেই যে অ্যাডমিশন হয়ে যাবে, ব্যাপারটা এমন না। যাদের প্রোফাইল Minimum Requirements পূরণ করার পরও আরও হাইফাই, তাদেরই সুযোগ বেশি অ্যাডমিটেড হওয়ার। তাই নিরাপদ হল প্রোফাইল অনুযায়ী কিছু ‘খাপে খাপ’ ভার্সিটিতে এপ্লাই করা, এবং প্রোফাইলের চেয়ে একটু নিচের দিকের কিছু ভার্সিটিতে এপ্লাই করা। চাইলে এগুলোর পাশাপাশি প্রোফাইলের চেয়ে একটু উপরের সারির ভার্সিটিতেও এপ্লাই করতে পারেন। এতে করে এপ্লিকেশন প্রসেসটা ব্যালান্সড হবে।

এখন আসি খাদ্য ও পুষ্টির বিভিন্ন কনসেন্ট্রেশনের উপর। অনেক ধরনের মেজর আপনি দেখবেন ভার্সিটি ঘাঁটাঘাঁটির সময়। যেমন, নিউট্রিশনের মেজরের মধ্যে আছে Biochemical & Molecular Nutrition, Community Nutrition & Health Promotion, Clinical nutrition, Medical Dietetics, Nutraceuticals, Nutrition & Exercise, Maternal, infant and child nutrition, Phytochemicals and disease risk, Obesity/health promotion across lifespan, Nutrition and genetics, Bone health, Dietary effects on GI regulation, Sports nutrition ইত্যাদি। আবার ফুডের মেজরের মধ্যে আছে Food Science, Food acceptability, Food Science & management, Food Science & Technology, Food safety & defense, Food process engineering ইত্যাদি। যদি নিউট্রিশন বা ফুড সায়েন্স বাদ দিয়ে পাবলিক হেলথ নিয়ে পড়তে চান, তাহলে এপ্লিকেশন প্রসেডিওর আলাদা হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাবলিক হেলথের জন্য SOPHAS-এর মাধ্যমে এপ্লাই করতে হয়। এসব বিষয়ে ভার্সিটির ওয়েবসাইটে বিস্তারিত লেখা থাকে। পাবলিক হেলথের উপর মাস্টার্স এবং ডক্টরাল – উভয় ডিগ্রিই দেওয়া হয়।

মেজর কনসেন্ট্রেশন বাছার জন্য আপনার আন্ডারগ্র্যাড এবং গ্র্যাড কোর্সগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সাথে ল্যাবরেটরি এক্সপেরিয়েন্সও থাকা জরুরি। যেমন, Nutrition and genetics নিয়ে পড়তে চাইলে আন্ডারগ্র্যাডে জেনেটিক্সের উপর পড়াশোনা থাকতে হবে; সাথে cell, model organism, and animal model নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। আবার Nutrition & Exercise নিয়ে পড়তে চাইলে আন্ডারগ্র্যাডে Exercise Science নিয়ে পড়াশোনা থাকতে হবে ইত্যাদি। তবে এসব রিকোয়ারমেন্ট ক্ষেত্রবিশেষে শিথিল হতে পারে। প্রফেসরকে যদি কনভিন্স করা যায় যে, আপনার এসব অভিজ্ঞতা নেই কিন্তু সুযোগ পেলে আপনি দ্রুত এগুলো শিখে নিতে পারবেন, কিংবা আপনার ভেতর এসব বিষয়ের উপর কাজ করার তীব্র ইচ্ছে রয়েছে এবং দ্রুত এগুলোতে দক্ষ হওয়ার মত পটেনশিয়াল আপনার আছে, তাহলে অ্যাডমিশন হওয়া অসম্ভব কিছু না। আরেকটা ব্যাপার হল স্টেটমেন্ট অফ পারপাস (Statement of Purpose/SOP)। এখানে যুক্তি দিয়ে আপনাকে বুঝাতে হবে, কেন প্রয়োজনীয় রিকোয়ারমেন্ট না থাকা সত্ত্বেও আপনি এই প্রোগ্রামের জন্য নিজেকে যোগ্য ক্যান্ডিডেট মনে করছেন। দুর্বলতাকে ঢেকে দিতে হবে নিজের সামর্থ্যের বর্ণনা দিয়ে।

কিছু ভার্সিটি Interdepartmental Nutrition Program পরিচালনা করে। এক্ষেত্রে নিউট্রিশন ডিপার্টমেন্ট একা নয়, বরং আরও কয়েকটা ডিপার্টমেন্ট মিলে নিউট্রিশন প্রোগ্রামে অংশ নেয়। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রতিটা ডিপার্টমেন্ট থেকে কিছু কোর্স নিতে হবে। Purdue University, University of Nebraska-Lincoln, North Carolina State University, Iowa State University ইত্যাদিতে এই সুযোগ আছে। আবার Michigan State University-তে Ph.D Dual Major Program (Food Science and Human Nutrition/Environmental Toxicology) আছে। এক্ষেত্রে আপনি একই সাথে দুটো বিষয়ের উপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করবেন।  আবার Saint Louis University-তে Master of Public Health and Master of Science in Nutrition and Dietetics নামে Dual Degree Program আছে। একই সাথে M.P.H./M.S. শেষ করতে পারবেন।

কিছু ভার্সিটিতে নিউট্রিশন ডিপার্টমেন্টের অধীনে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বেশ কিছু স্পেশালাইজড ল্যাবরেটরি আছে। যেমন, University of Alabama at Birmingham, University of Georgia, Texas Tech University ইত্যাদিতে। আবার অনেক ভার্সিটিতে এরকম বিষয়ভিত্তিক আলাদা ল্যাবরেটরি নেই, কিন্তু তাই বলে সেখানে ভালো রিসার্চ চলে না, এমনও নয়। সেসব জায়গায় প্রফেসরভিত্তিক নির্দিষ্ট ল্যাবরেটরি থাকতে পারে। তাই খুব সূক্ষ্মভাবে বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে দেখতে হয়। লিংকগুলোতে দেওয়া প্রতিটা ভার্সিটিতে ঢুঁ মারুন, হাতে বেশি অপশন পাবেন।

যারা দেশের বাইরে নিউট্রিশনে পড়াশোনা করছেন, তারা যদি কোনো তথ্যের সংশোধনী দিতে চান বা নতুন তথ্য যোগ করতে চান, কমেন্ট সেকশনে সেটা উল্লেখ করলে খুশি হবো!

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s